শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

পান্না কায়সার ও শাহরিয়ার কবিরের সন্দেহ

আসিফ আরসালান

জাতির দুর্ভাগ্য যে, জুলাই আগস্টের ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার বিরোধী বিপ্লবে যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অংশ নিয়েছিলেন, বিপ্লবের পর মাত্র সাড়ে à§« মাসের মধ্যেই তাদের মধ্যে অনৈক্য-বিভেদ প্রকট এবং প্রকাশ্য রূপ ধারণ করেছে। ভেবেছিলাম এ বিষয়টি নিয়েই আজকে লিখবো। কিন্তু যেসব আলামত পাচ্ছি, সেসব দেখে শুনে মনে হচ্ছে, যে বিভেদটি এখনও পত্রিকার পাতায় সীমাবদ্ধ রয়েছে সেটি সহসাই মাঠ পর্যায়েও গড়াবে। সেজন্য এ সপ্তাহের জন্য সে বিষয়ে লেখা থেকে বিরত রইলাম। আগামী রোববার যদি রাজনৈতিক পরিস্থিতির বড় কোনো অবনতি না ঘটে তাহলে এ বিষয় নিয়ে লেখার ইচ্ছা রইলো। 

আগামী ৩০ জানুয়ারি বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার ও লেখক জহির রায়হানের অন্তর্ধান দিবস। সেদিন তিনি বড় ভাই শহিদুল্লাহ কায়সারের খোঁজে মিরপুর গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তিনি আজ অবধি ফিরে আসেননি। তখন ছিল শেখ মুজিবের সরকার। জহির রায়হানের সমগ্র পরিবার সন্দেহ করেছিলেন যে, তাকে জীবিত রাখা হয়েছে। সরকার এটিকে তার গৎবাঁধা ভাষায় বলে দিলো যে, এটা রাজাকার বা আলবদরদের অপকর্ম। কিন্তু জহির রায়হানের সমগ্র পরিবার এবং তার ঘনিষ্ঠতম জনরা বলেন যে, এটি রাজাকার আলবদরদের কাজ কোনোক্রমেই হতে পারে না। কারণ ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পাক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়েছে। অনেক রাজাকার আলবদর এবং বিহারিরা মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে মারা পড়েছেন। অন্যেরা আত্মগোপনে চলে গেছেন। এই অবস্থায় রাজাকার আলবদর বা বিহারিদের পক্ষে জহির রায়হানকে হত্যা করার কোনো সুযোগই ছিল না। ইত্যবসরে তার নিকটজনদের নিকট থেকে যেসব বক্তব্য পাওয়া যায় তাতে বোঝা যায় যে, ঐসময়ে মিরপুর যেহেতু ভারতীয় বাহিনী এবং মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিল তাই নিহত হলে এদের হাতেই তিনি নিহত হয়েছেন। 

জহির রায়হান নিখোঁজ হওয়ার পর শেখ মুজিব à§© বছর à§® মাস ক্ষমতায় ছিলেন। কিন্তু জহির রায়হান নিখোঁজ হওয়ার কোনো তদন্ত করেননি বা এসম্পর্কে দেশবাসীকে কিছুই জানাননি। শেখ হাসিনা প্রথম মেয়াদে ১৯৯৬ সালে à§« বছরের জন্য ক্ষমতায় এসেছিলেন। তখনও কিছু করেননি। এরপর ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে সাড়ে à§§à§« বছর স¤à§à¦°à¦¾à¦œà§à¦žà§€à¦° মতো দোর্দন্ড প্রতাপে রাজত্ব করেছেন। তিনি পিতৃ হত্যার বিচার করেছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করেছেন। চট্টগ্রামে অস্ত্র খালাশ ঘটনার বিচার করেছেন। এমনি অনেক ঘটনার বিচার করেছেন এবং অনেককে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়েছেন। শেখ মুজিবসহ আওয়ামী লীগ ২৪ বছর দুই মাস রাজত্ব করেছে। কিন্তু জহির রায়হানের নিখোঁজ হওয়ার বিচার তো দূরের কথা, রহস্য উদ্ঘাটন করারও উদ্যোগী হয়নি। তাহলে এই উদ্যোগী না হওয়ার রহস্য কী? আসুন, তার নিকটজনদের জবানী থেকেই সেটি জানা যাক। 

॥ দুই ॥

শাহরিয়ার কবিরের নাম সকলেই শুনেছেন। তিনি আওয়ামী লীগ এবং ভারতের কঠিন দালাল হিসেবেই পরিচিত। শাহরিয়ার কবির প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। সেটি ছাপা হয়েছিল অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক বিচিত্রায় ১৯৯২ সালের ১লা মে। সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষ নিম্নে তুলে ধরছি। 

সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে সত্যজিৎ রায় শাহরিয়ার কবিরকে হঠাৎ করে জিজ্ঞেস করলেন, “জহিরের ব্যাপারটা কিছু জেনেছো?” -“তাকে সরিয়ে ফেলার পেছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আমরা ব্যক্তিগতভাবে তদন্ত করে যা বুঝতে পেরেছি তাতে বলা যায় ৩০ জানুয়ারী দুর্ঘটনায় তিনি হয়তো মারা যাননি। তারপরও দীর্ঘদিন তাকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল বলে অনেকে মনে করেন।” -“স্ট্রেঞ্জ! জহিরকে বাঁচিয়ে রাখার পেছনে কারণটা কী?” -“সেটাই ষড়যন্ত্রের মূলসূত্র বলে ধরছি। মিরপুরে দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হলে গভীর ষড়যন্ত্র মনে করার কোনো কারণ ছিল না। আমি যতদূর জানি, বুদ্ধিজীবীদের হত্যার তদন্ত করতে গিয়ে তিনি এমন কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন যা অনেক রথী-মহারথীর জন্যই বিপজ্জনক ছিল, যেজন্য তাকে সরিয়ে ফেলার প্রয়োজন হয়েছিল।” ১৯৯২ সালেও শাহরিয়ার কবির মনে করতেন যে, জহির রায়হানকে ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারীর পরেও দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল। তাহলে ঘাদানিক নেতৃবৃন্দ এবং আওয়ামী বুদ্ধিজীবীরা বলুন যে, স্বাধীন বাংলাদেশে জহির রায়হানকে আটকে রাখার ক্ষমতা ছিল কাদের? বলা হচ্ছে যে, বুদ্ধিজীবী হত্যার তদন্ত করতে গিয়ে জহির রায়হানের হাতে এমন কিছু তথ্য এসেছিল যেটা রথী-মহারথীদের জন্য ছিল বিপজ্জনক। স্বাধীন বাংলাদেশে আওয়ামী সরকারের আমলে কারা ছিলেন রথী-মহারথী? যে বিপজ্জনক তথ্যের জন্য তাকে সরিয়ে ফেলার প্রয়োজন হয়েছিল সেসব তথ্য কাদের জন্য বিপজ্জনক ছিল?

প্রিয় পাঠক, আজ আমরা এ ব্যাপারে নিজস্ব কোনো মন্তব্য করবো না। আমরা তার নিকটজনের কয়েকজনের বক্তব্য তুলে ধরছি মাত্র। 

পান্না কায়সার ছিলেন জহির রায়হানের বড়ভাই শহিদুল্লাহ কায়সারের স্ত্রী। অর্থাৎ তিনি ছিলেন জহির রায়হানের ভাবী। এক সময়কার টেলিভিশন অভিনেত্রী শমি কায়সার পান্না কায়সারের কন্যা। পান্না কায়সার এক সময় আওয়ামী লীগের এমপিও ছিলেন। বাংলা ১৩৯৯, ১০ জৈষ্ঠ্য, ইং ১৯৯২ দৈনিক ‘বাংলার বাণী’তে পান্না কায়সার একটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন। প্রবন্ধের শিরোনাম ছিল “কবিতা মিলনকে মিথ্যা সান্ত¡à¦¨à¦¾”। এই নিবন্ধে তিনি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবু সাঈদ চৌধুরীর স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট সেলিম সম্পর্কে কিছু তথ্য দিয়েছেন। আলোচ্য নিবন্ধের এক স্থানে পান্না কায়সার বলেছেন, “৩০ জানুয়ারি জহির রায়হান একটি ফোন পেয়ে মিরপুরে ছুটে গিয়েছিলেন। একথা বহুবার লেখা হয়েছে, বলা হয়েছে। কিন্তু বলা হয়নি সেলিমের কথা। সেলিমও নাকি সেরকমই একটি ফোন পেয়ে প্রেসিডেন্ট আবু সাঈদকে না বলেই জহির রায়হানের সঙ্গে মিরপুরে ছুটে গিয়েছিলেন। তারপর দুজনের ভাগ্যে একই নিষ্ঠুর পরিণতি। দুজনই নিখোঁজ। সেলিমের মা এ সংবাদ পেয়ে প্রেসিডেন্ট আবু সাঈদ চৌধুরীর কাছে ছুটে গিয়েছিলেন। সেলিম বঙ্গভবনের যে ঘরটিতে থাকতেন ইত্যবসরে সে ঘর থেকে সমস্ত কাগজপত্র, কাপড়-চোপড় উধাও। শহীদ সেলিমের মা অনেক কষ্ট করেও কোন রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেননি। রহস্য রহস্যই থেকে গেল। জহির রায়হান নিখোঁজ হবার পর বুদ্ধিজীবী হত্যার কোন খবর পাওয়া যায়নি। সেলিমের সংগৃহীত গুরুত্বপূর্ণ কাগজগুলোর কোন হদিসই পাওয়া গেল না। পাওয়া গেলে হয়তো পরবর্তীতে তদন্ত কমিটির অন্য কেউ কাজে লাগাতে পারতেন। শহীদ সেলিমের মায়ের মতে, বঙ্গভবনে ওর ঘর থেকে যে প্রয়োজনীয় কাগজগুলো উধাও হয়েছিল সেগুলো সম্ভবত তদন্ত কমিটির গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রই হবে। খোদ বঙ্গভবন থেকে জিনিসপত্র উধাও হয়ে যাবে তা ভাবতেও বিশ্বাস হয় না। শহীদ সেলিম বুদ্ধিজীবী হত্যা তদন্তের কাজে সরাসরি জড়িত ছিলেন একথা আমি আগে জানতাম না। আমি কেন, আর কেউ জানে কিনা তাও জানি না। জহির রায়হান ও সেলিমের নিখোঁজ রহস্য এখন আমার কাছে আরও রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে।

পান্না কায়সার নিজেই বলেছেন যে, খোদ বঙ্গভবন থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উধাও হয়ে যাবে সেটা ভাবনারও অতীত। জহির রায়হানের সাথে লেফটেন্যান্ট সেলিমও বুদ্ধিজীবী হত্যা তদন্তে সরাসরি জড়িত ছিলেন। এ সম্পর্কিত কাগজপত্র জহির রায়হান এবং সেলিম উভয়ের কাছ থেকেই উধাও হয়ে গেছে। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রেসিডেন্টের ভবন থেকে কাগজপত্র উধাও করতে পারে কারা? ‘রাজাকার’ বা ‘পাকিস্তানপন্থীরা’ অবশ্যই নয়। এটা করা সম্ভব একমাত্র তাদের পক্ষে, যারা ক্ষমতার আশপাশে ছিলেন।

॥ তিন ॥

জহির রায়হানের মৃত্যু সম্পর্কে কথা বলেছেন তার প্রথম স্ত্রী সুমিতা দেবী। তিনি বলেন, সেদিন বাড়ি থেকে জহির কিভাবে কেমন করে বেরিয়ে গিয়েছিল আমি দেখিনি। কারণ আমি তখন মোহাম্মদপুরে তিন ছেলে এক মেয়ে নিয়ে আলাদা থাকি। পরে আমার ননদ জহিরের ছোট বোন ডাক্তার সুরাইয়ার কাছে বিস্তারিত শুনেছি।

সেদিন সকাল আটটার দিকে জহিরের কাছে একটা ফোন আসে। ফোনটা ধরেছিল সুরাইয়া নিজে। সেদিন রফিক নামে কেউ একজন ফোন করেছিল। আমরা যে রফিককে চিনতাম তিনি ইউসিসে চাকরি করতেন। তার সঙ্গে আমারই প্রথম পরিচয় ছিল। পরে আমিই তাকে জহিরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলাম। টেলিফোনে সে জহিরকে বলেছিল, আপনার বড়দা মিরপুর ১২ নম্বরে বন্দী আছেন। যদি বড়দাকে বাঁচাতে চান তা হলে এক্ষুণি মিরপুর চলে যান। একমাত্র আপনি গেলেই তাকে বাঁচাতে পারবেন। অন্য কেউ যদি সেখানে যায় তাহলে আপনার বড়দার ডেডবডি আসবে বাড়িতে। 

টেলিফোন পেয়েই জহির প্যান্ট পরে সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। আর সেই বাড়িতে ফিরে আসেনি জহির। 

একদিন বড়দি অর্থাৎ জহিরের বড় বোন নাসিমা কবিরকে ডেকে নিয়ে শেখ মুজিব বলেন, জহিরের নিখোঁজ নিয়ে এ রকম চিৎকার করলে তুমিও নিখোঁজ হয়ে যাবে। পরে নাসিমা আর কিছু বলেনি। টেলিফোন করেছিল যে রফিক, তাকে নিয়ে যখন পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি শুরু হলো তখন তাকে পুরো পরিবারসহ আমেরিকায় পাঠিয়ে দেয়া হলো। এ ঘটনা জহিরের নিখোঁজ হওয়া সম্পর্কে রফিকের ভূমিকাকে আরো সন্দেহযুক্ত করে তোলে আমার কাছে। (তথ্য সূত্র ঃ শাহরিয়ার কবির সম্পাদিত “একাত্তরের অবিরাম রক্তক্ষরণ”, আসলাম সানী রচিত “শত শহীদ বুদ্ধিজীবী”)।

॥ চার ॥

বাংলাদেশের বিখ্যাত অভিনেত্রী ববিতা জহির রায়হানের দ্বিতীয় স্ত্রী সুচন্দার ছোট বোন। ববিতা অতীত স্মৃতিচারণ করেছেন বেক্সিমকো গ্রুপের তৎকালীন রম্য পাক্ষিক পত্রিকা ‘আনন্দ ভূবনে’। ১৯৯৭ সালের ১৬ মার্চ ‘কুলায় কাল ¯à§à¦°à¦¾à§‡à¦¤’ বিভাগে, ‘পুরানো সেই দিনের কথা’ শিরোনামে ঐ স্মৃতিচারণ করেছেন। 

স্মৃতিচারণের এক পর্যায়ে ববিতা বলেন, “আমার মনে হয়, জহির ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। ভারত থেকে ফিরে আসার পর একবার এক মিটিংয়ে উনি বলেছিলেন ‘যুদ্ধের নয় মাস আমি কলকাতায় ছিলাম। আমি দেখেছি সেখানে কে কী করেছে, কে দেশের জন্য কাজ করেছে, আর কে নিজের আখের গুছিয়েছে। আমার কাছে সব রেকর্ড আছে। আমি সব ফাঁস করে দেব।’ এটাই জহির রায়হানের জীবনে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ওই আজমীরে যাওয়া, ওই সেয়াস করা, এগুলোর পেছনে উদ্দেশ্য ছিল তাকে মিরপুরে নিয়ে যাওয়া এবং হত্যা করা।”

ববিতা আরো বলেন, ঐ টেলিফোন (মার্কিন তথ্য কেন্দ্রের, ইউসিসের) পেয়ে জহির রায়হান যখন বেরিয়ে যান তখন তার সাথে ছিলেন একজন ভারতীয় ব্রিগেডিয়ার। সেই ব্রিগেডিয়ারের রাতে আমাদের বাসায় ডিনার করার কথা ছিল। সন্ধ্যার সময়ে ব্রিগেডিয়ার সাহেব আমাদের গেন্ডারিয়ার বাসায় ফোন করে বললেন, ডিনার খাওয়া হবে না। কেননা জহির রায়হানকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা বললাম, কেন উনিতো আপনার সাথেই বেরিয়ে গেছেন। উনি বললেন, হ্যাঁ। কিন্তু ওখানে গিয়ে এক সময়ে উনি আমাদের থেকে আলাদা হয়ে গেছেন। আর তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি, এই বলে ফোন রেখে দিলেন।

॥ পাঁচ ॥

লেখাটা বড় হয়ে গেল বলে আরো কিছু তথ্য সন্নিবেশ করা গেল না। তবে ওপরে পরিবেশিত তথ্যগুলো সবই তার ঘনিষ্ঠতম পারিবারিক সূত্রের। আগেই বলেছি যে, আওয়ামী লীগের মোট ২৪ বছরের রাজত্বে কত বিচারই না হলো। অবশ্য অনেকে সেগুলো বিচারের নামে প্রহসন বলে মনে করেন। যা হোক, এত বিচারের ভিড়ে জহির রায়হানের অন্তর্ধান রহস্যের উদ্ঘাটন হলো না বা ঘাতক বলে যাদেরকে ধারণা করা হয় তাদের বিচার হলো না। সেটাই সবচেয়ে বড় রহস্য। ড. ইউনূস বলেছেন, à§« আগস্ট আমরা দ্বিতীয় স্বাধীনতা পেয়েছি। সত্যিই এখন স্বাধীনতার সুবাতাস বইছে। সকলেই মুক্তবাক। অনেকের বিচার শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ যে বিচার করেনি, জহির রায়হানের সে বিচার কি এখন করা যেতে পারে না? করলে হয়তো রাহস্যের একটি নয়, একাধিক মেঘনাদের আওয়াজ শোনা যেতে পারে। ঐ মেঘনাদদের আওয়াজে হয়তো দেখা যেতে পারে ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের ভয়ঙ্কর চেহারা। আমরা আগেই বলেছি যে, এসম্পর্কে আমরা নিজস্ব কোনো মন্তব্য করবো না। তবে দুর্মুখরা বলেন, “বুঝহ সুজন, যে জানো সন্ধান”। 

Email: [email protected]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ